অধ্যায় ০১ : টেক্সটাইল কাচামাল

টেক্সটাইল কাঁচামাল শব্দটির অর্থ কি?

মানুষেয়র চাহিদা অনুযায়ী কাপড় তৈরি করতে সুতার প্রয়োজন আর সুতা তৈরি করতে টেক্সটাইল ফাইবার প্রয়োজন। অর্থাৎ কাপড় তৈরির অন্যতম কাঁচামাল হল ফাইবার। আবার পৃথিবীতে অনেক ধরনের ফাইবার আছে; তাদের সবগুলোই কাপড় তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয় না। আর্থাৎ সুতা বা কাপড় তৈরিতে যে সমস্ত আঁশ ব্যবহৃত হয় সেগুলোকেই আমরা টেক্সটাইল ফাইবার বলব। টেক্সটাইল ফাইবার সে সতল ব্সতুকেই বুঝব, যাদের নিদির্ষ্ট গুণাবলি, ন্যূনতম দৈর্ঘ্য, শক্তি, সূক্ষœতা, নমনীয়তাম সমতা, স্থিতিস্থাপকতা, আর্দ্রতা ধারণক্ষমতা, রেসিলিয়েন্সি, তাপ পরিবাহিতা এবং রং করার ক্ষমতা ইত্যাদি বজায় থাকে। টেক্সটাইল কাঁচামাল আবার দুভাবে পেয়ে, যেমন-প্রাকৃতিকভাবে এবং কৃত্রিমভাবে। প্রাকৃতিক টেক্সটাইল কাঁচামাল যেমন-কটন, জুট, সিসাল, ফ্লাক্স, হেম্প, কয়ার, র‌্যামি, উল, সিল্ক, গ্লাস, অ্যাজবেস্টস, মেটাল ইত্যাদি। আবার কৃত্রিম টেক্সটাইল, কাঁচামাল যেমন-নাইলন, পলিয়েস্টার, অরলন, অ্যাক্রাইলিক ও স্পানডেক্স ইত্যাদি।

আবার কিছু টেক্সটাইল ফাইবার আছে, রিজেনারেটেড সেলুলোজিক ফাইবার বলে। এ ধরনের ফাইবারের মূল কাঁচামাল হল সেলুলোজ, যা প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করা হয়্ যেমন-যে সমস্ত উদ্ভিদে সেলুলোজ থাকে (যেমন-বাঁশ, গাছ) সেগুলোকে বিভিন্ন প্রত্রিয়ার মাধ্যমে রাসায়নিক বিত্রয়া ঘটিয়ে টেক্সটাইল ফাইবার তৈরি করা হয়। আবার কৃত্রিম ফাইবার তৈরি করা হোক না কেন তাকে নির্দিষ্ট গুণাবলির অধিকারী হতে হবে। একটি টেক্সটাইল ফাইবারের সম্পূর্ণ গুণাবলি জানতে হলে তার দৈর্ঘ্য, শক্তি, আর্দ্রতা ধারণক্ষমতা, ছিঁড়ে যাবার পূর্বে প্রসারণ, ঘনত্ব, ইলেকট্রিক্যাল গুণাবলি, এসিডে বিক্রিয়া, অ্যালকালিতে বিক্রিয়া, তাপ পরিবাহিতা, রং করার ক্ষমতা রেসিলিয়েন্সি এবং ব্যাকটেরিয়ায় প্রতিরোধ ক্ষমতা কী রকম ইত্যাদি জানতে হয়। মানুষের চাহিদা মোতাবেক কাপড় প্রস্তুত করতে হলে টেক্সটাইল কাঁচামারেল নির্দিষ্ট গুণাবলি থাকতে হবে। টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট প্রদত্ত ফাইবারের সংজ্ঞা মতে, নমনীয়তা, সূক্ষতা, দৈর্ঘ্য, পুরুত্ব এবং হাই-রেশিও গুণাগুণসম্পন্ন আঁশকে ফাইবার বলে।

 

টেক্সটাইল ফাইবারের গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্যসমূহ কি কি?

যদি একটি টেক্সটাইল ফাইবারকে তার ব্যবহারের দিকে দৃষ্টি রেখে বিবেচনায় আনতে হয় তাহলে তার উপযুক্ত ভৌত এবং রাসায়নিক গুণাবলির অধিকারী হতে হবে। এ ছাড়াও ব্যবহারকারীর চাহিদার উপর টেক্সটাইল সামগ্রীর ব্যবসায়িক সফলতা নির্ভর করে। টেক্সটাইল ফাইবার দ্বারা বস্ত্রসামগ্রীর তৈরি করে যখন তা ভোক্তার নিকট পৌছে দেওয়ার জন্য বাজারজাত করা হয় তখন সেগুলোকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা বা ট্রিটমেন্ট যেমন- সংকোচন, প্রসারণ, পাক দেওয়া, এসিড অ্যালকালি, অক্সিডাইজিং এজেন্ট, উচ্চ তাপ, উচ্চ চাপ ইত্যাদি গুণ সম্পন্ন করেই ফিনিশড কাপড় হিসাবে উপযোগী করে তোলা হয়। ব্যবহার উপযোগী গুণাবলি অর্জনের জন্য টেক্সটাইল ফাইবারে বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক পদার্থ। প্রয়োগ করা হয়, যেমন-ভাঁজ প্রতিরোধ ক্ষমতা, অগ্নিপ্রতিরোধ ক্ষমতা, পানি প্রতিরাধ ক্ষমতা, মথ বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা ইত্যাদি। একটি টেক্সটাইল ফাইবারের সম্পূন্য গুণাবলি জানতে হলে তার ধৌতকরণ, পরিচর্যা, ঘর্ষণ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মথ বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা ইত্যাদি। একটি টেক্সটাইল ফাইবারের সম্পূর্ন গুণাবলি জনতে হলে তার ধৌতকরণ, পরিচর্যা, ঘর্ষণ প্রতিরোধ পার্সেপিরেশন, উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ধারণক্ষমতা, ছিঁড়ে যাবার পূর্বে প্রসারণ, ঘনত্ব, এসিডে ক্রিয়া, অ্যালকালিতে ক্রিয়া, রেসিলিয়েন্সি, তাপীয় প্রতিক্রিয়া, সূর্যের আলোতে প্রতিক্রিয়া, সংকোচন উজ্জ্বলতা, ড্রেপাবিলিটি, রং এর প্রতি আইবারের আসক্তি ইত্যাদি জানতে হবে। সতরাং উপরের আলোচনায় এটা প্রতিয়মান হয় যে, ফাইবারের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য।

নিম্নে টেক্সটাইল ফাইবারের সংক্ষিপ্ত গুণাবলি দেওয়া হলঃ

 

১। আঁশের শক্তিঃ

ফাইবারের শক্তি বলতে বুঝায় এটি কতটুকু টান সহ্য করতে পারে। আঁশের শক্তির সাথে সুতা বা কাপড়ের শক্তি নির্ভরশীল। আঁশ যত শক্ত হবে সুতা বা কাপড়ও তত শক্ত হবে। ফাইবার দ¦ারা সুতা তৈরির জন্য প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা ফাইবারের নিদির্ষ্ট্য শক্তি থাকা আবশ্যক। আঁশের শক্তিকে টেনাসিটি দ্বারাও প্রকাশ করা হয়, অর্থাৎ গ্রামস পার ডেনিয়ারের মাধ্যমে। কিছু আঁশ ভেজা বা শুষ্ক অবস্থায় শক্তি অপরিবর্তনীয় থাকে। ফাইবারের শক্তি কাপড়ের ব্যবহারের স্থায়িত্বের নিশ্চয়তা প্রদান করে।
যত প্রকার প্রাকৃতিক আঁশ আছে তন্নধ্যে রেমি সবচেয়ে শক্তিশালী। ফ্লাক্স ফাইবারের শক্তি দ্বিতীয়। ফ্লাক্স ফাইবারের ভেজা অবস্থায় শক্তি বাড়ে। কটন ফাইবারের শক্তি মোটামুটি ভাল। কটন ফাইবার ভিজলে শক্তি বাড়ে তবে তা ক্ষণস্থায়ী। তবে মার্সেরাইজেশন প্রক্রিয়ায় কটনে শক্তি স্থায়ীভাবে বাড়ানো সম্ভব। বিভিন্ন ধরনের অ্যাকরাইলিক ফাইবার তৈরি হয়, যাদের শক্তিরও তারতম্য হয়। যেমন-জেফরান অ্যাকরাইলিক, মোড অ্যাকরাইলিক থেকে শক্তিশালী ভিসকাস রেয়নের শক্তি অ্যাকরাইলিক ফাইবার এর থেকে কম তবে হাই টেনসিটি রেয়ন বেশ শক্তিশালী। আর্দ্রতা ধারণের উপর ভিসকস রেয়নের শক্তির পার্থক্য হয। যেমন-পানিতে ভিজালে এ ফাইবার শতকরা ৪০ থেকে ৭০ ভাগ শক্তি হারায়, তবে শুকালে পুনরায় পূর্বানস্থায় (শক্তি) ফিরে আসে। এসিটেট অপেক্ষাকৃত দুর্বল ফাইবারের এবং উল প্রাকৃতিক ফাইবারসমূহের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল। ভেজা অবস্থায় উল ফাইবার নিজের শক্তি শতকরা ২৫ ভাগ হারায়। সব ফাইবারের মধ্যে তুলনামূলকবাবে স্পানডেক্স এর শক্তি সবচেয়ে কম। তবে এর ঘর্ষণ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। কৃত্রিম ফাইবারের মধ্যে কেভলার অ্যারামিডের শক্তি সবচেয়ে বেশি এবং গ্লাস ফাইবারের শক্তি দ্বিতীয়। গ্লাস ফাইবারের শক্তি হল ৬.৩ থেকে ৬.৯ গ্রাম/ডেনিয়ার।

 

২। ফাইবারের দৈর্ঘ্যঃ

আঁশের দৈর্ঘ্য গুণাগুণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাধারণত দৈর্ঘ্যরে বড় আঁশ অপেক্ষাকৃত মসৃণ ও শক্ত হয়ে থাকে এবং উন্নত মানের তৈরি করা যায়। দৈর্ঘ্য অবশ্যই তার ব্যাস থেকে কয়েক হাজার গুণ বেশি হতে হবে। সূক্ষè সুতা বা উচ্চ সম্বরের সুতা তৈরির জন্য আঁশের দৈর্ঘ্য অবশ্যই বেশি হতে হবে।
টেক্সটাইল ফাইবারকে সাধারণত ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১। ফিলামেন্ট
২ । স্ট্যাপল।

 

ফিলামেন্টঃ লম্বা অবিচ্ছিন্ন ফাইবারকে ফিলামেন্ট বলা হয়। ফিলামেন্ট দুভাবে ব্যবহার করা হয়- মনোফিলামেন্ট ও মালটিফিলামেন্ট। যদি একক ভাবে ১ টি ফিলামেন্টকে সুতা হিসাবে ব্যবহার করা হয় তা মনোফিলামেন্ট আবার একাধিক ফিলামেন্ট কে একত্রিতভাবে বা পাক দিয়ে সতা তৈরির উপযোগী করা হয় তখন তাকে মালটিফিলামেন্ট বলে।

প্রাকৃতিক ভাবে প্রাপ্ত শুধুমাত্র রেশম ফাইবারকেই ফিলামেন্ট আকারে পাওয়া যায়। কিন্তু কৃত্রিম উপায়ে তৈরি সকল প্রকার ফাইবারই বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ থেকে তৈরি। বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের প্রথমে বিভিন্ন বিক্রিয়া তথা পলিমারাইজেশন এর মাধ্যমে তাপে ও চাপে গলানো হয়।

পরে উক্ত গলিত পলিমারকে মিহি ছিদ্র বিশিষ্ট স্পিনারেটের ভিতর দিয়ে অত্যাধিক চাপে অতিক্রম করিয়ে অবিচ্ছিন্নভাবে টেনে বের করা হয়, ফলে ফিলামেন্ট তৈরি হয়।

 

৩। আঁশের সূক্ষতা:

কোন বস্তুর সূক্ষতা তার ব্যাস বা প্রস্থচ্ছেদের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আঁশের প্রস্থচ্ছেদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাতকেই সূক্ষèতা বলে। মোটা আঁশের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য তার ব্যাসের চেয়ে ৭০০ গুণ বেশি হয়। কিন্তু অতি সূক্ষè আঁশের ক্ষেত্রে এটি ৫০০০ গুণেরও বেশি হয়। সূক্ষè আঁশ দ্বারা উচ্চ নম্বরে বা উন্নত মানের সুতা তৈরি করা যায়। তুলা আঁশের ক্ষেত্রে এর সূক্ষœতা তার ব্যাস ও আঁশে উপস্থিত সেলুলোজ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণভাবে বলা যায় যে, ছোট দৈর্ঘ্যরে আঁশ মোটা এবং লম্বা দৈর্ঘ্যরে আঁশ সূক্ষè। আবার আঁশের সূক্ষèতাকে হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, যাকে লিনিয়ার ডেনসিটি বলে। অন্যভাবে লিনিয়ার ডেনসিটি বলতে ঐ আঁশের প্রতি একক দৈর্ঘ্যরে ওজনকে বুঝায়। কটন এর বেলায় প্রতি ১ ইঞ্জি আঁশের ওজন মাইক্রোগ্রামে (০.০০০০০১ গ্রাম) অর্থাৎ মাইক্রোগ্রাম পার ইঞ্জি তে প্রকাশ করা হয়।

 

৪। আঁশের নমনীয়তা:

নমনীয় ফাইবারের পক্ষে পাক ধারণ করা সহজসাধ্য। সুতা তৈরির সময় ফাইবারে এ গুণ বেশ গুরুত্বপূর্ণ যা সরাসরিভাবে কাপড়ের গুণাগুণকে প্রভাবিত করে। এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই কাপড়কে একই স্থানে বহুবার ভাঁজ করলেও ফাইবারে ফাটল ধরে না। আর এর গুণাগুণের জন্যই কাপড় পরিধান করলে আরামদায়ক অনুভূত হয়।

 

৫। আঁশের অনমনীয়তা বা দৃঢ়তা:

এটা নমনীয়তার উল্টো। বৈশিষ্ট্যের কারণে সুতা তৈরির সময় পাক ধারণ দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। নমনীয়তা বা দৃঢ়তা কাপড়ে যে সহজেই ভাঁজ করা যায়, এমন প্রবণতাকে প্রতিরোধ করে কারণ ফাইবারের বৈশিষ্ট্যই কাপড়ে প্রতিফলিত হয়।

 

৬। আঁশের স্থিতিস্থাপকতা:

ফাইবারের স্থিতিস্থাপকতা বলতে বুঝায় টান সাপেক্ষে ফাইবারের প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতা এবং টানমুক্ত করলে পুনরায় পূর্ব অবস্থাবের ফিরে যাওয়ার ক্ষমতা। ফাইবারের এ গুণাগুণ পরিধেয় কাপড়ের স্থিতিস্থাপকতাকে বাড়িয়ে দেয় এবং কাপড় পরিধানকারী সহজেই মুক্তভাবে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারেন এবং আরামবোধ করেন।

 

৭। আঁশের রেসিলিয়েন্সি:

ফাইবার বা কাপড় টান, পাক বা ভাঁজের দ্বারা বিক্রত হওয়ার পর পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার যে ক্ষমতা তাই হলো রেসিলিয়েন্সি। যে কাপড়ের রেসিলিয়েন্সি ভাল সে কাপড়ের কুঁচকানের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাল এবং সামান্য ইস্ত্রি করেই কুঁচকানো ভাব দূর করা সম্ভব। কাপড়ের স্থায়িত্ব, যত্ন ও সৌন্দর্য রক্ষার প্রশ্নে রেসিলিয়েন্সি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতএব, যে সকল কাপড়ে রেসিলিয়েন্সি ভাল ব্যবহারকারীরা সে সকল কাপড় বেশি পছন্দ করেন। কটন এবং লিনেন কাপড়ের রেসিলিয়েন্সি উল এবং সিল্ক কাপড়ের তুলনা অনেক কম। সেজন্য কটন এবং লিনেন কাপড় সামান্য ব্যবহারেই ভাঁজ পড়ে।

 

৮। আঁশের প্রসারণ:

টানের মাধ্যমে ফাইবারের যে অনুদৈর্ঘীয় বিকৃতি ঘটানো সম্ভব, তাই হল প্রসারণ। প্রসারণকে আদি দৈর্ঘ্যরে ভিত্তিতে শতকরায় প্রকাশ করা হয়ে থাকে। যেমন, ১০০ সে.মি. দৈর্ঘ্যরে একটি ফাইবারকে ছিঁড়ে যাবার পূর্ব পর্যন্ত ১২০ সে.মি প্রসারণ ঘটানো সম্ভব হলে বলা যাবে ঐ ফাইবারের প্রসারণ ক্ষমতা ২০%। সুতা ও কাপড় তৈরির জন্য ফাইবারের নূন্যতম ১৮% প্রসারণ ক্সমতা থাকা বাঞ্ছনীয় ফাইবারের প্রসারণ ক্ষমতা বিভিন্ন অবস্থায় (ভেজা বা শুল্ক) বিভিন্ন হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।